সারাদেশ

হাসি ফুটেছে বগুড়ার বোরো চাষিদের মুখে

বগুড়া অঞ্চলের বোরো চাষিদের মুখে এবার হাসি ফুটেছে। গত কয়েক বছরের মধ্যে ধানের ফলন ও দাম পেয়ে বোরো চাষিরা এবার লাভের মুখ দেখেছে। বগুড়ার বোরো চাষিরা বলছেন, চলতি বছর কাজারে ধানের দাম থাকায় আয় হয়েছে। আর কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে মোট ৮ লাখ মেট্রিক টন চাল উৎপাদনের আশা করছে।

বগুড়া জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছে, বগুড়া অঞ্চলে ধান কাটা শেষ। ধান কাটার পর এবার চাষিরা আপতকালিন ধান বর্ষালি চাষ শুরু করেছে। বর্ষাকালে এই ধান চাষ হয় বলে স্থানীয়রা আপতকালিন বর্ষালি ধান বলে থাকে। বর্ষালির পর আমন ধান চাষ শুরু করবে। বগুড়ার কয়েকটি উপজেলায় চাষিরা আমন চাষের প্রাথমিক প্রস্তুতি হিসেবে বীজতলা তৈরির জন্য জমি নির্বাচন শুরু করে দিয়েছে। জেলা এই মৌসুমে এপ্রিল মাসের শেষ থেকে বগুড়ায় বোরো ধান কাটা শুরু হয়। আর এবার এপ্রিল মাসের শুরুতে লকডাউনে ঘোষণায় কৃষকের মনে শঙ্কা দেখা গেলেও সেই শঙ্কা আর নেই।

বগুড়ার মাঠে মাঠে ধান কাটা শেষ হয়েছে। মে মাসে করোনা ভাইরাসের প্রভাব থাকলেও কৃষি শ্রমিক সংকট সৃষ্টি হয়নি। সংকট না থাকায় বোরো ধান কেটে চাষিরা হাটে বিক্রি করেছে। শুরুতে কাঁচা ধান ৭০০-৮০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হয়েছে। এরপর শুকনা ধান ১ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি হয়। পরে চিকন ধান বিক্রি হয়েছে ১০৫০-১১০০ টাকা মণ। বর্তমান বাজারে হাজার টাকা মণ দরে ধান বিক্রি হচ্ছে।

বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার হুয়াকুয়া গ্রামের মুসা মন্ডল জানান, এক বিঘা জমিতে বীজ, সার, চাষ, সেচসহ বিক্রি পর্যন্ত ৯ থেকে ১০ হাজার টাকা খরচ হয়। জমি ভেদে ২২থেকে ২৪ মণ ধান পাওয়া যায়। এবার বাজারে দাম থাকায় কিছুটা হলেও লাভের দেখা গেছে। হাটে এখন শুকনা ধান বিক্রি হচ্ছে ১০৫০ টাকা মণ। ধানের দাম এমন থাকলে কৃষকরা লাভ পাবে এবং ধান চাষে আগ্রহী হয়ে উঠবে। গত বছর ধান বিক্রি হয়েছে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা মণ।

বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জেলার ১২ উপজেলার বোরো চাষিরা সময়মত বোরো চাষ করে। চাষবাস শেষে ফলন ঘরে তুলে কেনাবেচা করছে চাষিরা। জেলায় এবার ১ লাখ ৮৮ হাজার ৬১৫ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নেয়া হলেও সেখানে বোরা চাষ হয় ১ লাখ ৮৮ হাজার ৫১০ হেক্টর জমিতে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১০৫ হেক্টর জমিতে কম চাষ হয়েছে। ফলন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় প্রায় ৭ লাখ ৭২ হাজার ৯৭৪ মেট্রিক টন। কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, চলতি বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং পরিবেশ দূষণ কম থাকার কারণে ফলন বেড়ে যাবে বলে দাবি করা হয়েছে।

বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মো: দুলাল হোসেন জানান, বগুড়ায় বোরো ধান কাটা শেষ। গত বছেরর মত এবছরও ভাল ফলন পাওয়া গেছে। জেলায় বেশিরভাগ উফশী বা উচ্চ ফলনশীল জাতের বোরো চাষ হয়েছে। চলতি মৌসুমে ফলনের যে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল তার থেকে বেড়ে গিয়ে ৮ লাখ মেট্রিক টন ছাড়িয়ে ফলন পাওয়া বলে আশা করা হচ্ছে।

বোরো চাষিদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, শুকনা ধান বিক্রি করেছেন ১ হাজার ৫০ টাকা মন। এবার ধান বিক্রি করে লাভের মুখ দেখেছেন। প্রতি বিঘা জমিতে প্রায় ২২ থেকে ২৫ মণ ধান হয়েছে। গতবছর বাজারে ধান বিক্রি করে শেষ পর্যন্ত কিছু আয় হয়েছিল। এবার বাজারে শুরুতেই ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা মন বিক্রি হয়। পরে ৯৫০ থেকে ১০৫০ টাকা মন ধান বিক্রি হয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button